দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে ২০ টি অজানা তথ্য!
১. হিটলারের আর্ট স্কুলে ব্যর্থতা
হিটলার আসলে একজন শিল্পী হতে চেয়েছিলেন এবং ভিয়েনা অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দু’বার ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন, যা পরবর্তীতে তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনে।
২. "গোস্ট আর্মি" পরিচালনা
মিত্র বাহিনী ‘গোস্ট আর্মি’ নামে একটি ছদ্মবাহিনী তৈরি করেছিল, যাদের কাজ ছিল কৃত্রিম ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং মিথ্যা রেডিও সংকেতের মাধ্যমে নাৎসিদের বিভ্রান্ত করা।
৩. কোকা-কোলা কোম্পানির "ফান্টা" ব্র্যান্ডের সৃষ্টি
যুদ্ধের সময় কোকা-কোলার কাঁচামালের অভাবে জার্মানিতে নতুন একটি পানীয় আবিষ্কার করা হয়, যার নাম রাখা হয় “ফান্টা”।
৪. পোষা প্রাণীদের হত্যার পরিকল্পনা
ব্রিটিশ সরকার সম্ভাব্য খাদ্য সংকট এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা সমাধানে যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৭ লাখ পোষা প্রাণী হত্যা করার পরামর্শ দেয়। অনেকেই তাদের পোষা প্রাণী হত্যা করেন, যদিও পরে এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে বিবেচনা করা হয়।
৫. জাপান আমেরিকার মাটিতে বোমা নিক্ষেপ করে
জাপানি বাহিনী হালকা বিস্ফোরকযুক্ত বেলুন ব্যবহার করে আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে হামলা চালায়। যদিও এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি, এটি ছিল জাপানের মার্কিন ভূখণ্ডে প্রথম হামলার প্রচেষ্টা।
৬. “ব্ল্যাক ক্যাট” বিভ্রান্তি
ব্ল্যাক ক্যাট স্কোয়াড্রন নামে পরিচিত একটি বাহিনী ছিল, যাদের প্রধান কাজ ছিল শত্রুপক্ষের ট্যাংকার এবং জাহাজকে নিশানা বানানো। তারা বিশেষভাবে রাতের অন্ধকারে অপারেশন পরিচালনা করত।
৭. ক্যারিয়ারের প্রাণহানির পরিমাণ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৭.৫ কোটি মানুষ প্রাণ হারায়, যা বিশ্ব জনসংখ্যার ৩%।
৮. পেনিসিলিনের আবিষ্কার
যুদ্ধের সময় পেনিসিলিনকে “অলৌকিক ঔষধ” বলা হতো। এটি মূলত মার্কিন সেনাবাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল সংক্রমণ প্রতিরোধে, যা অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করে।
৯. "স্লোয়িং ডাউন ফ্যাক্টরি" আন্দোলন
অধিকৃত দেশগুলোতে নাৎসি বাহিনীর জন্য কাজ করতে বাধ্য করা শ্রমিকরা সচেতনভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে ‘স্লোয়িং ডাউন ফ্যাক্টরি’ আন্দোলন করতেন।
১০. সোভিয়েত নারীরা সৈনিক ছিলেন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রায় ৮ লাখ নারী সৈনিক হিসাবে যুদ্ধ করেন, যারা বিমানচালক, স্নাইপার এবং ট্যাংক চালক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
১১. ‘সুইস ফোর্টস’
সুইজারল্যান্ড তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য দেশের সীমান্ত বরাবর গোপন কৌশলগত ফোর্ট তৈরি করে, যা শত্রুদের আক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করতে সহায়ক ছিল।
১২. হিটলারের অপারেশন "বারবারোসা"
হিটলারের অপারেশন বারবারোসা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণের একটি পরিকল্পনা। তবে প্রচণ্ড শীতকাল এবং সোভিয়েত বাহিনীর প্রতিরোধ হিটলারের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেয়।
১৩. এনিগমা কোড
নাৎসি বাহিনীর গোপন এনিগমা কোডকে ভাঙার জন্য মিত্র বাহিনী বিশেষ কোড-ব্রেকিং দল তৈরি করেছিল, যা যুদ্ধের কৌশলগত জয়লাভে অনেকটাই সহায়ক হয়েছিল।
১৪. “প্রোজেক্ট হ্যাবাকুক”
যুক্তরাজ্য এমন একটি আর্কটিক এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার তৈরির পরিকল্পনা করেছিল যা বরফ এবং কাঠের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হবে। এটি ছিল শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বিশেষ প্রস্তাবিত একটি প্রকল্প, তবে শেষ পর্যন্ত এটি বাতিল করা হয়।
১৫. খাদ্য সংকট প্রতিরোধের জন্য ‘ভিক্টরি গার্ডেন’
মিত্র বাহিনীর দেশগুলোতে সাধারণ মানুষ তাদের খাদ্য সংগ্রহের জন্য বাড়ির আশেপাশে এবং পার্কে ‘ভিক্টরি গার্ডেন’ নামে পরিচিত বাগান তৈরি করেন, যা খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সাহায্য করে।
১৬. হিটলারের নিজের তৈরী "ওয়েন্ডারওয়াফে"
হিটলার “ওয়েন্ডারওয়াফে” (অলৌকিক অস্ত্র) নামে বিভিন্ন ধরনের সুপার-অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল V-2 রকেট, যা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পূর্বসূরি।
১৭. ইরানের তেলক্ষেত্র রক্ষায় মিত্র বাহিনীর অভিযান
মিত্র বাহিনী ইরানে অভিযান চালিয়ে তেলের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা নাৎসি বাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না পারে।
১৮. "অপারেশন মাইকেলবার্গ"
অপারেশন মাইকেলবার্গ ছিল একটি গোপন মিশন, যেখানে পোপকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কারণ নাৎসি বাহিনী পোপকে তাদের শত্রু মনে করত।
১৯. গুপ্তচর সেবার 'ডাবল ক্রস' পদ্ধতি
মিত্র বাহিনী যুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর গুপ্তচরদের ‘ডাবল ক্রস’ পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের পক্ষেই ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফল একটি কৌশল ছিল।
২০. "হিরোশিমা এবং নাগাসাকি বোমা হামলা" পরিণতি
পারমাণবিক বোমা হামলার পর হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরিণতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ভবিষ্যতে মানবজাতি যেন এই ধরণের অস্ত্র ব্যবহারের বিপদ বুঝতে পারে।