প্রায় ৩৪০০ বছর আগের এক তরুণী, যিনি এখনো কথা বলেন – এগ্টভেড মেয়ে
১৯২১ সালের এক গ্রীষ্মের দিন। ডেনমার্কের এগ্টভেড গ্রামে কৃষিকাজ করার সময় হঠাৎই দেখা যায় মাটির নিচে এক অদ্ভুত কাঠের কফিন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছুটে আসেন। খোলার পর দেখা যায়—ভেতরে এক কিশোরীর দেহাবশেষ! হ্যাঁ, প্রায় ১৩৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মারা যাওয়া এক কিশোরী। আজ আমরা তাকে চিনি “এগ্টভেড গার্ল” নামে।
কে ছিলেন এই মেয়ে?
বয়স মাত্র ১৬ থেকে ১৮। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। তার পরনে ছিল ব্রোঞ্জ যুগের ঐতিহ্যবাহী পোষাক—উল বোনা স্কার্ট, কোমরে বেল্ট, হাতে ব্রেসলেট। চুল ছিল ঘাড় পর্যন্ত কাটা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার দেহ এতটাই ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল যে, আজও আমরা তার নখ, দাঁত, এমনকি চুলও পরীক্ষা করতে পারি!
তার সঙ্গে ছিল…
তার কফিনে পাওয়া গেছে একটি ছোট শিশুর দগ্ধ হাড়। ধারণা করা হয়, হয়তো তার আত্মীয় ছিল সে। সেইসঙ্গে পাওয়া যায় তার ব্যবহার করা কম্বলের চিহ্ন, ব্রোঞ্জের অলংকার ও খাবারের পাত্র।
বিজ্ঞান কী বলছে?
বিজ্ঞানীরা যখন তার দাঁত ও চুলের আইসোটোপ বিশ্লেষণ করেন, তখন বেরিয়ে আসে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য। এগ্টভেড মেয়ে কেবল এগ্টভেড গ্রামে থাকতেন না। তিনি প্রায় ১০০০ কিমি দূরের কোনো পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মেছিলেন, এবং মৃত্যুর আগের বছরগুলোতে অনেক ভ্রমণ করেছিলেন। তার দেহের গঠন বলে দেয়, তিনি ছিলেন সুস্থ, পুষ্টিকর খাদ্যভাসের অধিকারী, সম্ভবত কোনো উচ্চবিত্ত গোত্রের সদস্য।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
“এগ্টভেড গার্ল” শুধু একটি কঙ্কাল নয়, তিনি প্রমাণ যে ইতিহাসে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন। তার জীবন থেকে আমরা বুঝি, প্রাচীন ব্রোঞ্জ যুগের মানুষ কতটা উন্নত ছিল—ভ্রমণ করতো, সুসংগঠিত জীবনযাপন করতো, মৃতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে সমাধিস্থ করতো।
আজ কোথায় তিনি?
ডেনমার্কের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে এখন তার কফিন ও দেহাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে। মডেলিং ও ৩ডি রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে তার মুখ, যা দেখে মনে হবে—তিনি যেন আজও আমাদের মাঝেই আছেন, অতীত থেকে ফিরে এসেছেন।
---
