মৃত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি কাজ করে? জানুন বিজ্ঞান কী বলে!
ফিঙ্গারপ্রিন্ট
প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্মার্টফোন আনলক করা হোক বা অফিসে হাজিরা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি সর্বত্র। কিন্তু এক অদ্ভুত প্রশ্ন অনেকেই করেন—মৃত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি সত্যিই কাজ করে? মৃতদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেন সমস্যা করে?
একজন মানুষ মারা গেলে শরীরের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে:
- ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়
- রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়
- তাপমাত্রা কমে যায়
এই তিনটি পরিবর্তনের কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে যে 'capacitive sensing' বা ত্বকের ইলেকট্রিক চার্জ নির্ণয়ের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ, মৃত মানুষের আঙুল অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক স্ক্যানারে সাড়া দেয় না।
তবে কি কোনোভাবেই এটি কাজ করে না?
আসলে বিষয়টা পুরোপুরি নির্ভর করে মৃত্যুর পর কত সময় পেরিয়েছে তার ওপর।
মৃত্যুর ২-৫ ঘণ্টার মধ্যে, যদি আঙুল এখনো নমনীয় ও আর্দ্র থাকে, তাহলে কিছু ডিভাইসে কাজ করতে পারে।
তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিগর মর্টিস (Rigor Mortis) বা পেশীর শক্ত হয়ে যাওয়া শুরু হলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আর স্ক্যান করা সম্ভব হয় না।
নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কেন?
অনেকেই ভাবেন—কারও মৃত্যু হলে তার ফোন বা অ্যাকাউন্টে কেউ হয়তো তার আঙুল ব্যবহার করে ঢুকে যেতে পারে।
কিন্তু আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে "liveness detection" নামে একটি প্রযুক্তি রয়েছে, যা চেক করে আঙুলে রক্ত চলাচল বা চার্জ আছে কিনা। ফলে মৃত মানুষের আঙুল ব্যবহার করে ফোন আনলক করা সম্ভব হয় না।
--- উপসংহার:
সারাংশে, মৃত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সাধারণত আধুনিক বায়োমেট্রিক সিস্টেমে কাজ করে না। যদিও মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যে কিছু প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা সম্ভব, তবে নিরাপত্তা প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এটি দিন দিন আরও অসম্ভব হয়ে উঠছে।
