পোস্টগুলি

ওয়াইফাই ও শিশুর স্বাস্থ্য!

ছবি
  ১) Wi-Fi রেডিয়েশন কী এবং এর প্রকৃতি Wi-Fi-র মাধ্যমে তথ্য ট্রান্সফার হয় Radiofrequency Electromagnetic Field (RF-EMF) এর মাধ্যমে, যা নন-আয়নিজিং রেডিয়েশন। এর énergie এত কম যে তা কোষের DNA সরাসরি ভাঙতে পারে না (Ionizing নয়)।  এটাই মূল কারণ অনেক স্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষণা বলা হয়েছে, সাধারণ পরিবেশে ও Wi-Fi ডিভাইস থেকে যে RF-EMF বের হয়, তা মানুষের শরীরে বড় ধরনের প্রমাণিত ক্ষতি করে না।   ২) বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কি আলাদা কিছু? 🔬 শিশুদের শরীরের কোষ দ্রুত বৃদ্ধি-বিকাশ হচ্ছে এবং তারা স্টেম-সেল-সমৃদ্ধ। কিন্তু: 📌 এক Systematic Review-তে বলা হয়েছে, মানব ভ্রূণ, শিশু ও কিশোরদের উপর Wi-Fi-র দীর্ঘমেয়াদি RF-EMF-এর প্রভাব সম্পর্কে প্রতিলিপি বা শক্ত প্রমাণ পর্যাপ্ত নয়। প্রাকৃতিক ব্যবধান, আচরণগত কারণ ও ডিভাইস ব্যবহার সময় আরও প্রভাব ফেলতে পারে, Wi-Fi নয়।  📌 ২.৪৫ GHz Wi-Fi-র পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে কিছু স্বল্প-স্থিতিক পরিবর্তন (যেমন প্রজনন কোষ-সম্পর্কিত মেটাবলিজমে পরিবর্তন), কিন্তু তা মানব স্বাস্থ্য-ঝুঁকি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।  🔎 এর মানে: শিশুদের জন্য Wi-Fi-এর RF-EMF-এর স...

স্মার্টওয়াচ কি শরীরের ক্ষতি করছে? জানুন রেডিয়েশন, অ্যালার্জি ও ত্বকের ঝুঁকি সম্পর্কে

ছবি
১. স্মার্টওয়াচ থেকে নির্গত রেডিয়েশন (EMF): স্মার্টওয়াচে থাকে ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সংযোগ। এসব প্রযুক্তি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (EMF) নির্গত করে। বিপদ কি? EMF-এর মাত্রা খুবই কম, তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় খুব কাছ থেকে ব্যবহারে তা কোষের কার্যকলাপে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ উদ্বেগ: শিশু, গর্ভবতী নারী, কিংবা যাদের আগে থেকেই ত্বক সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে সাবধানতা দরকার। ২. ত্বকের সংস্পর্শে ক্ষতিকর ধাতু বা উপাদান: অনেক স্মার্টওয়াচের স্ট্র্যাপে থাকে নিকেল, সিলিকন, রাবার, প্লাস্টিক বা চীনামাটির উপাদান। এসব উপাদান অনেক সময় ত্বকে অ্যালার্জি বা সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণ: লালচে ফুসকুড়ি, চুলকানি, জ্বালা, ত্বকে চাকা পড়া ইত্যাদি। বিশেষ করে যারা অ্যালার্জি প্রবণ, তাদের জন্য হাইপোঅ্যালার্জেনিক (Hypoallergenic) স্ট্র্যাপ ব্যবহার করা ভালো। প্রতীকী চিত্র ৩. ঘাম ও জীবাণু জমে ত্বকে সংক্রমণ: স্মার্টওয়াচ দীর্ঘ সময় হাতে পরে থাকলে ঘাম, ময়লা ও ত্বকের মৃত কোষ জমে যায়। ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে। ফলে হতে পারে: ফোলাভাব, ফুসকুড়ি, ত্বকের ছত্রাক, কিংবা ত্বকের ইনফেকশন। সমাধান: ...

ভাত আবিষ্কারের রহস্য: মানুষ কীভাবে বুঝলো ধান সিদ্ধ করলে খাওয়া যায়?

ছবি
ভাত — আমাদের প্রতিদিনের অতি পরিচিত খাদ্য। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, মানুষ সৃষ্টির আদিতে কীভাবে বুঝলো এই ছোট্ট দানাটি, যাকে আমরা 'ধান' বলি, সিদ্ধ করলে ভাতে পরিণত হয় এবং তা খাওয়া যায়? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় হাজার হাজার বছর আগে, প্রাচীন ইতিহাসের আলো-আঁধারিতে। কল্পিত চিত্র যেখানে একদল মানুষ ধান সংগ্রহ করছে প্রাচীন ধানের ইতিহাস: সভ্যতার শুরুতে প্রায় ১০,০০০ বছর আগে, আজকের চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠছিল কৃষিভিত্তিক সভ্যতা। চীনের ইয়াংজি নদীর উপত্যকা এবং ভারতের গঙ্গা অববাহিকা ছিল ধানের চাষের আদিম কেন্দ্র। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় পাওয়া গেছে, এইসব অঞ্চলে বুনো ধান আগে থেকেই জন্মাতো, এবং প্রাচীন মানুষ তা সংগ্রহ করে খেত। কিন্তু বুনো ধান ছিল শক্ত ও সহজে হজম হতো না। মানুষের পর্যবেক্ষণ আর অভিজ্ঞতা থেকে একদিন কেউ আগুনে সিদ্ধ করে দেখলো — ধান নরম হয়ে যাচ্ছে, খেতেও সুস্বাদু। এটাই ছিল প্রথম 'ভাত' খাওয়ার সূচনা। ভাত রান্নার পেছনের যুক্তি প্রথম দিকে হয়তো আগুনে পানি গরম করার সময় ধান পড়ে গিয়েছিল, আর সেখান থেকেই দেখা গেল — ধান সিদ্ধ হয়ে সাদা, নর...

নিকোলা টেসলার মৃত্যু রহস্য!

ছবি
নিকোলা টেসলা—বিশ্বের অন্যতম সেরা উদ্ভাবক ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাবিদ, যিনি আজও আধুনিক প্রযুক্তির অনেক কিছুর নেপথ্যের নায়ক। তাঁর উদ্ভাবনী মস্তিষ্কের দৌলতে আমরা পেয়েছি AC কারেন্ট, রেডিও, রিমোট কন্ট্রোলের মতো চমকপ্রদ প্রযুক্তি। কিন্তু টেসলার জীবন যেমন রহস্যে ঘেরা, তেমনি তাঁর মৃত্যুও ইতিহাসে রেখে গেছে অনেক প্রশ্নচিহ্ন।   মৃত্যু ও ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী তথ্য  নিকোলা টেসলা ৭ জানুয়ারি, ১৯৪৩ সালে নিউইয়র্কের হোটেল নিউ ইয়র্কারে মারা যান। তাঁর ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় করোনারি থ্রম্বোসিস বা হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট বাঁধা। তিনি মৃত্যুর সময় একদম নিঃসঙ্গ ছিলেন—অর্থকষ্টে ভুগছিলেন, এবং কেবলমাত্র সাদা কবুতরদের সঙ্গই ছিল তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে।   এফবিআই নথি ও সন্দেহ   টেসলার মৃত্যুর পরে, তাঁর হোটেল রুমে রাখা বহু গোপন নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে Office of Alien Property Custodian, যা পরে FBI-এর তত্ত্বাবধানে যায়। সেসময়ের বহু গোপন প্রযুক্তি সংক্রান্ত নথি নিয়ে টেসলা কাজ করছিলেন—বিশেষ করে “ডেথ রে” বা মৃত্যুর রশ্মি নামক এক সম্ভাব্য অস্ত্র নিয়ে। এফবিআই পরে কিছু ফ...

প্রায় ৩৪০০ বছর আগের এক তরুণী, যিনি এখনো কথা বলেন – এগ্টভেড মেয়ে

ছবি
১৯২১ সালের এক গ্রীষ্মের দিন। ডেনমার্কের এগ্টভেড গ্রামে কৃষিকাজ করার সময় হঠাৎই দেখা যায় মাটির নিচে এক অদ্ভুত কাঠের কফিন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছুটে আসেন। খোলার পর দেখা যায়—ভেতরে এক কিশোরীর দেহাবশেষ! হ্যাঁ, প্রায় ১৩৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মারা যাওয়া এক কিশোরী। আজ আমরা তাকে চিনি “এগ্টভেড গার্ল” নামে। কে ছিলেন এই মেয়ে? বয়স মাত্র ১৬ থেকে ১৮। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। তার পরনে ছিল ব্রোঞ্জ যুগের ঐতিহ্যবাহী পোষাক—উল বোনা স্কার্ট, কোমরে বেল্ট, হাতে ব্রেসলেট। চুল ছিল ঘাড় পর্যন্ত কাটা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার দেহ এতটাই ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল যে, আজও আমরা তার নখ, দাঁত, এমনকি চুলও পরীক্ষা করতে পারি! তার সঙ্গে ছিল… তার কফিনে পাওয়া গেছে একটি ছোট শিশুর দগ্ধ হাড়। ধারণা করা হয়, হয়তো তার আত্মীয় ছিল সে। সেইসঙ্গে পাওয়া যায় তার ব্যবহার করা কম্বলের চিহ্ন, ব্রোঞ্জের অলংকার ও খাবারের পাত্র। বিজ্ঞান কী বলছে? বিজ্ঞানীরা যখন তার দাঁত ও চুলের আইসোটোপ বিশ্লেষণ করেন, তখন বেরিয়ে আসে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য। এগ্টভেড মেয়ে কেবল এগ্টভেড গ্রামে থাকতেন না। তিনি প্রায় ১০০০ কিমি দূরের কোনো পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মেছিলেন, এবং মৃত্যুর আগের ব...

ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধ: এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা

ছবি
ভূমিকা   ভারত ও পাকিস্তান, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ। সীমান্তে টানাপোড়েন লেগেই থাকে। কিন্তু যদি এই টানাপোড়েন একদিন পূর্ণ মাত্রার পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা কেমন হবে? এই প্রশ্নই আজকের আলোচ্য। কাল্পনিক পারমাণবিক আঘাত  তাৎক্ষণিক ধ্বংস ও মৃত্যু   যুদ্ধ শুরু হলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটবে। প্রথম ঘণ্টায়ই প্রাণ হারাতে পারে প্রায় ২-৫ কোটি মানুষ। হাজার হাজার মানুষ বিকলাঙ্গ ও পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে বেঁচে থাকবে মৃত্যুর চেয়ে খারাপ অবস্থায়। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা একেবারে অচল হয়ে পড়বে।    পরমাণবিক শীত:  পৃথিবী অন্ধকারে ঢাকা পড়বে পরমাণু বোমার ফলে সৃষ্ট আগুন এবং ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে সূর্যের আলো আটকে দেবে। বৈজ্ঞানিকদের মতে, তাপমাত্রা কমে যাবে ২-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে; বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।   রেডিয়েশনের ভয়াল প্রভাব   বাতাস, পানি ও মাটি দূষিত হয়ে যাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মাবে জন্মগত ত্রুটি, ক্যানসার ও জিনগত রোগ নিয়ে।   অর্থনীতি ...

মৃত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি কাজ করে? জানুন বিজ্ঞান কী বলে!

ছবি
ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্মার্টফোন আনলক করা হোক বা অফিসে হাজিরা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি সর্বত্র। কিন্তু এক অদ্ভুত প্রশ্ন অনেকেই করেন— মৃত মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কি সত্যিই কাজ করে? মৃতদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেন সমস্যা করে?  একজন মানুষ মারা গেলে শরীরের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে:   ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়  রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়   তাপমাত্রা কমে যায়   এই তিনটি পরিবর্তনের কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারে যে 'capacitive sensing' বা ত্বকের ইলেকট্রিক চার্জ নির্ণয়ের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ, মৃত মানুষের আঙুল অনেক ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক স্ক্যানারে সাড়া দেয় না। তবে কি কোনোভাবেই এটি কাজ করে না? আসলে বিষয়টা পুরোপুরি নির্ভর করে মৃত্যুর পর কত সময় পেরিয়েছে তার ওপর। মৃত্যুর ২-৫ ঘণ্টার মধ্যে, যদি আঙুল এখনো নমনীয় ও আর্দ্র থাকে, তাহলে কিছু ডিভাইসে কাজ করতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিগর মর্টিস (Rigor Mortis) বা পেশীর শক্ত হয়ে যাও...