পৃথিবী সম্পর্কে রহস্যময় অজানা তথ্য!
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
১. পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা সূর্যের সমান
আমরা জানি পৃথিবীর কেন্দ্র খুবই উত্তপ্ত, তবে অনেকেই জানেন না যে এটি সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার কাছাকাছি। অনুমান করা হয় যে পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার সমান।
২. এক বছরের দিনগুলি দীর্ঘতর হচ্ছে
মজার ব্যাপার হলো, প্রতি শতাব্দীতে পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৭ মিলিসেকেন্ড করে দীর্ঘ হচ্ছে। এটি ঘটে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমে আসার কারণে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে জোয়ারের প্রভাবে পৃথিবী ধীরে ধীরে তার গতি হারাচ্ছে।
৩. পৃথিবীতে পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট
পৃথিবীতে যতটা পানি আছে, তা প্রায় একই পরিমাণে রয়ে গেছে কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে। এতে বোঝা যায় যে আমাদের পানীয় পানি রিসাইকেল হচ্ছে, এবং আমরা আজ যে পানি পান করি, সেটিই হয়তো কোনো ডাইনোসরের যুগেও ছিল।
৪. মহাসাগরের অজানা অঞ্চল
পৃথিবীর মহাসাগরগুলির মাত্র ৫% মানচিত্রিত হয়েছে। বাকি ৯৫% মহাসাগর অজানা এবং সেখানে অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে আছে। সমুদ্রের গভীরে রয়েছে এমন কিছু প্রাণী এবং ভূপ্রকৃতি যা আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি।
৫. পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থান
অনেকে সেরো এটাকামাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থান বলে মনে করেন, কিন্তু এন্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালি আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থান। এখানে কয়েকশো বছর ধরে বৃষ্টিপাত হয়নি, এবং এটি একটি শূন্য আর্দ্রতাসহ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
৬. চাঁদ দূরে সরে যাচ্ছে
চাঁদ প্রতি বছর প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবী এবং চাঁদের মধ্যকার এই দূরত্বের পরিবর্তনের ফলে কয়েকশো মিলিয়ন বছর পর চাঁদটি আকাশ থেকে আর দেখা যাবে না।
৭. একটানা ৪২ মিনিটে পৃথিবী ভ্রমণ
ধারণা করা হয়, যদি পৃথিবীর মধ্য দিয়ে সোজা একটি সুড়ঙ্গ খোঁড়া সম্ভব হতো এবং আপনি এতে লাফ দিয়ে পড়তেন, তাহলে পৃথিবীটির কেন্দ্র অতিক্রম করে অন্য পাশ থেকে বের হতে আপনার প্রায় ৪২ মিনিট সময় লাগতো।
৮. পৃথিবীর একটি নিজস্ব "রিং"
আমরা জানি শনি, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুনের চারপাশে রিং বা বলয় রয়েছে। তবে সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে যে পৃথিবীরও একটি নিজস্ব বলয় রয়েছে, যেটি আসলে ধুলোর তৈরি।
৯. পৃথিবীর গভীরে বিশাল একটি পানির স্তর
গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর ম্যান্টলের গভীরে পাথরের আকারে আটকে থাকা প্রচুর পরিমাণ পানি রয়েছে, যা পৃথিবীর সমুদ্রগুলির সমপরিমাণ হতে পারে। এটি মূলত রিঙ্গউডাইট নামে একটি খনিজ পদার্থের মধ্যে থাকে, যা পৃথিবীর গভীরে পানির আধার হিসেবে কাজ করে।
১০. বায়ুমণ্ডলের ৯০% ওজন ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৬ কিমি উচ্চতায় রয়েছে
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯০% ভর পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিমি উচ্চতার মধ্যেই থাকে। বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে পাতলা হতে হতে মহাকাশের সঙ্গে মিশে যায়, যা বিজ্ঞানীদের জন্য বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের সঠিক সীমানা নির্ধারণে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
১১. আমাজন বন তার ৫০% বৃষ্টি নিজেই তৈরি করে
আমাজন বনের গাছগুলো পানি বাষ্পে রূপান্তরিত করে এবং এটি বৃষ্টি হিসেবে ফিরে আসে। বলা হয়, আমাজন বনের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় অর্ধেকই বন নিজেই তৈরি করে, যা পৃথিবীর জলবায়ু এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১২. পৃথিবী একটি ‘ওব্লেট স্ফেরয়েড’ আকৃতির
অনেকেই মনে করেন পৃথিবী পুরোপুরি গোলাকার, তবে আসলে এটি একেবারে গোল নয়। পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ঘূর্ণনের কারণে মধ্যভাগে কিছুটা স্ফীত এবং মেরু অঞ্চলে চাপা আকৃতির। এর ফলে পৃথিবীর আকৃতিকে 'ওব্লেট স্ফেরয়েড' বলা হয়।
১৩. ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়
একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীর অক্ষের ওপর প্রভাব পড়ে, যা দিনের দৈর্ঘ্যকে সামান্য হলেও পরিবর্তন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালের জাপানের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ মাইক্রোসেকেন্ড কমে গিয়েছিল।
১৪. গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়েও বড় ক্যানিয়ন পৃথিবীতে রয়েছে
বৃহত্তম ক্যানিয়ন হিসেবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে অনেকে জানে, তবে গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল ক্যানিয়ন রয়েছে, যা গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চেয়েও বড়।
১৫. পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ১৭৩০টি বজ্রপাত হয়
প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৫ বার পৃথিবীর কোথাও না কোথাও বজ্রপাত হয়, যা প্রতিদিন প্রায় ১৭৩০ বার বজ্রপাতের সমান। এ সংখ্যা শুনতে চমকপ্রদ হলেও এটি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
১৬. বায়ুমণ্ডলে 'কারম্যান লাইন' নামে একটি সীমানা আছে
বিজ্ঞানীরা মহাকাশ এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সীমানা নির্ধারণে ‘কারম্যান লাইন’ নামে একটি কাল্পনিক রেখা ব্যবহার করেন, যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত। কারম্যান লাইনকে মহাকাশের শুরু হিসেবে ধরা হয়।
১৭. পৃথিবী প্রতি বছর ১ লাখ টন মহাকাশীয় ধুলো সংগ্রহ করে
বহির্বিশ্ব থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধুলো পৃথিবীতে এসে জমা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ টন ধুলো মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসে মিশে যায়।
১৮. মেরু অঞ্চলে রঙিন আকাশের ঘটনা বা ‘অরোরা’
মেরু অঞ্চলে দেখা যায় ‘অরোরা’ বা মেরুপ্রভা, যা সৌরকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করার ফলে সৃষ্টি হয়। এটি উত্তর মেরুতে 'অরোরা বোরিয়ালিস' এবং দক্ষিণ মেরুতে 'অরোরা অস্ট্রালিস' নামে পরিচিত।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
